দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্ট তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছর পরই পদ ছাড়লেন ৪০ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ।
পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে তার পদত্যাগ অনুমোদিত হলেও আকস্মিক এ পরিবর্তন নিয়ে কয়েকজন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে সভিরিদেঙ্কো বলেন, ‘এই বছরে প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপের দাবি করেছে। আমার প্রতি যে আস্থা ও সমর্থন দেখানো হয়েছে, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফলাফল।’
এক বছর আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জড়িত একটি বড় দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার কয়েক মাস পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, দুর্নীতি দমনে তিনি যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেননি।
জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন তার রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে এবং এজন্য নতুন মানুষের প্রয়োজন। তবে মন্ত্রিসভায় আবারও এই রদবদলের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
বিরোধী দল ‘হোলোস’-এর আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে—প্রতিদিন উপস্থাপনা হয়েছে, প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, আর প্রতিদিনই দুর্নীতির মামলায় নতুন একজন অভিযুক্তের নাম এসেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে পুরো মন্ত্রিসভাই পদত্যাগ করেছে বলে গণ্য হবে।
আইনপ্রণেতাদের ধারণা, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি ‘নাফতোগাজ’-এর প্রধান সেরহি কোরেতস্কিই নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল অথবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের নামও আলোচনায় রয়েছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থায় দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী মূলত অভ্যন্তরীণ নীতি, যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা এবং রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করেন।
সভিরিদেঙ্কো বলেছেন, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শীতকালীন প্রস্তুতি, কারণ রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ